Showing posts with label রহস্যময় সানসিংতুন সভ্যতা. Show all posts
Showing posts with label রহস্যময় সানসিংতুন সভ্যতা. Show all posts

Friday, April 7, 2017

রহস্যময় সানসিংতুন সভ্যতা

রহস্যময় সানসিংতুন সভ্যতা


সানসিংতুন-এর নাম আগে সানসিং গ্রাম ছিল কেউ ভাবতে পারেননি, ইয়ে নামে একজন কৃষক জমি চাষ করার সময় একটি বিস্ময়কর আবিষ্কার করবেন তারপর একটানা কয়েক দশকের গবেষণার পর প্রমাণিত হয়েছে, পাঁচ থেকে তিন হাজার বছর আগে এখানে প্রাচীন শু রাষ্ট্রের রাজধানী ছিল সুউজ্জ্বল এই সভ্যতা এখানে ২০০০ বছর স্থায়ী ছিল সানসিংতুন ধ্বংসাবশেষ আবিষ্কারের ফলে শু রাষ্ট্রের ইতিহাস আরও ২০০০ বছর এগিয়েছে আবিষ্কার চীনের সভ্যতার ইতিহাসকে আরও সমৃদ্ধ করেছে সানসিংতুন সভ্যতা আর ছুয়াংচিয়াং নদীর সভ্যতা হুয়াংহো নদীর সভ্যতার মতো সবই চীনের সভ্যতার মূল ভিত্তি সানসিং গ্রাম চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাংশের সিচুয়ান প্রদেশে অবস্থিত রাজধানী চেনতুং থেকে গাড়িতে যেতে প্রায় এক ঘণ্টা লাগে বর্তমানে এখানে পর্যটকদের ভিড় লেগেই থাকে ৭৫ বছর আগেকার বিস্ময়কর আবিষ্কার এই গ্রামের শান্তভাব ভেঙে দিয়েছে প্রায় দশ বছর আগে এখানে সানসিংতুন নামে একটি জাদুঘর প্রতিষ্ঠিত হয় সানসিংতুন জাদুঘর সূত্র থেকে জানা যায়, উত্তর অক্ষাংশের ৩০ ডিগ্রিতে অবস্থিত এই সভ্যতার ধ্বংসাবশেষ আবিষ্কারের গুরুত্বপূর্ণ তাৎপর্য আছে এই অক্ষাংশে আরও রয়েছে ছুমোলোংমা পর্বত, মায়া সভ্যতা, বারমুদা ত্রিকোণ এগুলোর অভিন্ন বৈশিষ্ট্য হচ্ছে রহস্য সানসিংতুন হচ্ছে এখন পর্যন্ত দক্ষিণ-পশ্চিম চীনে আবিষ্কৃত পুরাকীর্তির মধ্যে সংখ্যার দিক থেকে সবচেয়ে বেশি, আওতায় সবচেয়ে বড়, স্থায়ী সময় সবচেয়ে দীর্ঘ এবং সবচেয়ে সাংস্কৃতিক সম্পদ সমৃদ্ধ একটি প্রাচীন নগর প্রতœতত্ব থেকে জানা গেছে, প্রায় ৩০০০ বছর আগে, এই প্রাচীন নগর আকস্মিকভাবে বাতিল করা হয় ফলে খুব উন্নত মানের সানসিংতুন সভ্যতা হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায় পাঁচ বছর আগে চেনতুং শহরের উপকণ্ঠে আবিষ্কৃত কিনশা ধ্বংসাবশেষ গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিয়েছে এই দুটি পুরাকীর্তির বৈশিষ্ট্যে বহু মিল আছে ফলে কেউ কেউ বলেন, সানসিংতুন বর্তমান কিনশা ধ্বংসাবশেষের জায়গায় স্থানান্তরিত হয়েছিল কিন্তু ২০০০ বছর স্থায়ী একটি সুউজ্জ্বল প্রাচীন নগরকে বাতিল করার আসল কারণ কী ছিল? কেউ বলেন, বন্যার জন্য কেউ বলেন, যুদ্ধের জন্য কেউ বলেন, মহামারী রোগের জন্য কিন্তু সম্পর্কে কোনো ঐতিহাসিক রেকর্ড নেই আজ পর্যন্ত বিষয়ে এক গোলক ধাঁধা রয়েছে ব্রোঞ্জ দিয়ে তৈরি দ্রব্যাদি হচ্ছে সানসিংতুনে আবিষ্কৃত পুরাকীর্তির মধ্যে সবচেয়ে লক্ষণীয় জিনিস বিশেষ করে কিছু ব্রোঞ্জ মূর্তির এশীয় ব্যক্তির চেহারার সঙ্গে অনেক ভিন্নতা রয়েছে তাদের বড় বড় চোখ, উঁচু উঁচু নাকের হাড় বিশেষ করে জাদুঘরের একটি ব্রোঞ্জ দিয়ে তৈরি মুখোশের ব্যাখ্যা করা হয়েছে জানা গেছে, এটা হচ্ছে শু রাষ্ট্রের প্রথম রাজার আসল মুখের মূর্তি ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে , এটা হচ্ছে পৃথিবীতে সবচেয়ে বড় একটা ব্রোঞ্জ মুখোশ এবং রাষ্ট্রীয় মূল্যবান বস্তু এই মুখোশের চোখ বেলুনাকার কান খুব বড় এবং চূড়াযুক্ত আরেকটি পুরাকীর্তি থোংটিয়ান গাছ ফরাসি পর্যটকদের আকর্ষণ করেছে প্রাচীনকালে চীনারা মনে করেন, গাছ হচ্ছে মহাশূন্যের অবতার সূর্য, চাঁদ, তারা সবই গাছের ফল ব্রোঞ্জ দিয়ে তৈরি এই . মিটার উচু থোংটিয়ান গাছ বিশ্বের বিস্ময় বলা হয় এই গাছ তৈরির প্রযুক্তি খুব কঠিন এমন ভাস্কর্য পৃথিবীতে অদ্বিতীয় এত বড় ব্রোঞ্জ দিয়ে তৈরি দ্রব্যাদি এক বারে উৎপাদিত হয় না আবিষ্কৃত আটটি ব্রোঞ্জ গাছের মধ্যে দুটি গাছ মেরামত করা হয়েছে একটি গাছ মেরামত করতে তিন বছর সময় লাগে

বলা যায়, ব্রোঞ্জ দিয়ে তৈরি দ্রব্যাদি হচ্ছে সানসিংতুনে আবিষ্কৃত পুরাকীর্তির মধ্যে সবচেয়ে প্রতিনিধিত্বকারী পুরাকীর্তি। এই পুরাকীর্তিতে পুরোপুরি সেই যুগের চমৎকার শিল্প প্রযুক্তির মান প্রতিফলিত হয়েছে

সানসিংতুন ধ্বংসাবশেষে বিপুল পরিমাণ হাতির দাঁত আর সামুদ্রিক খোলা আবিষ্কৃত হয়েছে। এটা হচ্ছে সানসিংতুনের আরেকটি রহস্য। কারণ বর্তমান সিচুয়ান প্রদেশের ভৌগোলিক অবস্থান দেখে বোঝা যায়, সেখানে কোনোমতেই হাতি বেঁচে থাকার পরিবেশ নেই এবং সমুদ্র থেকেও বহু দূর। বিষয়ে কিছু পণ্ডিত মনে করেন, হাতির দাঁত আর সামুদ্রিক খোলা দক্ষিণ সিল্ক রোডের মাধ্যমে এসেছে। এখানে প্রায় ৫০০০টি সামুদ্রিক খোলা আবিষ্কার হয়েছে। আন্তঃদেশীয় শহর চেনতুয়ে কোনোমতেই সামুদ্রিক খোলা থাকার কথা নয়। তা থেকে বোঝা যায়, প্রাচীন শু রাষ্ট্রের বাণিজ্যিক পথ সত্যি সত্যি খুব লম্বা, এমনকি পশ্চিম এশিয়া দক্ষিণ এশিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। সানসিংতুন পুরাকীর্তি আফ্রিকা ছাড়া অন্য চারটি মহাদেশে প্রদর্শিত হয়েছে। সানসিংতুন জাদুঘরের কর্তৃপক্ষ বলেছেন, পর্যটকরা সানসিংতুনের প্রাচীন রহস্যময় সংস্কৃতি সবচেয়ে বেশি পছন্দ করেন। সানসিংতুনকে চাংচিয়াং নদী সভ্যতার উপরে একটি রাজমুকুট বলা হয়